 |
|
বাংলাদেশের পর্যটন
 আকর্ষণীয় স্থান
 পৃথিবীর ঐতিহ্যবাহী স্থান |
|
| |
|
বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানসমূহ
বাংলাদেশ বিশেষ করে মুসলিম ও প্রাক-মুসলিম আমলের প্রত্নতাত্বিক ঐতিহ্যে
সমৃদ্ধ৷ যদিও অদ্যাবধি এর অধিকাংশ অনাবিষ্কৃত বা অজানা রয়ে গেছে৷ বাংলাদেশের দুই হাজার ও ততোধিক বছরের বর্ণিল ইতিহাস অনেক রাজবংশ এদেশ শাসন করে এবং অন্তর্হিত হয় কিন্তু তাদের
তাত্পর্যপূর্ণ কৃতিত্বসমুহ - সুরম্য নগর, অট্রালিকা, কালের স্বাক্ষী হিসেবে রেখে গেছে যার ধ্বংসাবশেষসমূহ আজো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিলক্ষিত হয়৷ অদ্যাবধি এসব অনাবিষ্কৃত নিদর্শনসমূহ উত্খননের লক্ষ্যে নির্বাচনের জন্য এক উচ্চাভিলাষী বিশদ জরীপ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়৷ বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস থেকে উদঘাটিত হয় যে, বৌদ্ধ রাজানুকূল্য পাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ মন্দির বিহার ইত্যাদি গড়ে উঠে৷ |
|
|
মহাস্থানগড়
সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন মহাস্থানগড়৷ মহাস্থান মানে মহৎ স্থান যা বগুড়া শহর থেকে ১৮ কি. মি. উত্তরে অবস্থিত৷ মহাস্থানগড় বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরানো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন যা করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত৷ এ দুর্গ প্রাকার দ্বারা সংরক্ষিত দর্শনীয় স্থানটি এতদাঞ্চলের একটি মনোরম নিদর্শন৷ এর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন নিদর্শনসমূহ অর্ধবৃত্তাকার ৪ কিলোমাটার স্থান জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে৷ দুর্গ প্রাকারের ৪ পাশে
বিচ্ছিন্নভাবে গোবিন্দভিটা মন্দির, খোদাই পাথর দুর্গ, মা-কালীর কুন্ড, পরশুরামের বেদী, জীয়ত কুন্ড ছড়িয়ে আছে৷ খ্রীষ্টপূর্ব ৩য় অব্দে নির্মিত এ প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিকট গভীর শ্রদ্ধার আসনে আসীন৷ প্রতি বত্সর মধ্য-এপ্রিলে ও প্রত্যেক বারতম বত্সরে ডিসেম্বর মাসে হাজার হাজার হিন্দু পূণ্যার্থী করতোয়া নদীতে স্নান উত্সবে যোগ দেয়৷ মহাস্থানগড় সংলগ্ন জাদুঘর পরিদর্শনকালে উত্খননে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরণের প্রাচীন নিদর্শনের মধ্যে পোড়ামাটির বস্তু, স্বর্ণালংকার এবং মুদ্রা দেখতে পাওয়া যাবে৷ এ প্রসঙ্গে উল্লখ্য, শাহ সুলতান বলখীর মাজার ও গোকুল মেধ মহাস্থানগড়ের সন্নিকটে অবস্থিত৷ মহাস্থানগড় ভ্রমনকালে পর্যটকগণ পর্যটন মোটেল, বগুড়া এর আতিথেয়তা উপভোগ করতে পারবেন৷ |
|
|
সুন্দরবন
১. অবস্থানঃ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত৷ ইহা 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' হিসাবে ঘোষিত হয়েছে৷
২. রাজধানী ঢাকা হতে দূরত্বঃ ৩৮৫ কি.মি. (মংলা বন্দর), খুলনা
৩. নিকটবর্তী শহরঃ খুলনা শিল্প নগরীঃ ৪০ কি.মি.
৪. সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পর্যটক আকর্ষণীয় স্থানসমুহঃ
হিরণ পয়েনটঃ ৮৪ কি.মি.
কটকাঃ ১১২ কি.মি.
দুবলার চরঃ ৯০ কি.মি.
মান্দার বাড়ীয়াঃ ১১০ কি.মি.
পুটনী দ্বীপঃ ১০৬ কি.মি.
৫. পর্যটক আকর্ষণঃ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি- সুন্দরবন খুলনার সমুদ্রোপকুলবর্তী বদ্বীপসম জলাভুমি ৬০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত৷ ইহা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল৷ এ গভীর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল খাঁড়ি ও নদী দ্বারা জালের মত বেষ্টিত৷ এখানে একজন একই খাঁড়িতে পরস্পরের বিপরীত দিকে দুটি স্রোত প্রবাহ, প্রায়ই নদীতে বাঘের সাঁতার কাটা অথবা বৃহদাকার কুমিরের রোদ পোহানো উপভোগ করতে পারেন৷ অন্যান্য বন্য প্রানীর মধ্যে অসংখ্য বর্ণীল দেশী পাখী ও যাযাবর হাঁস ছাড়াও রয়েছে চিতল হরিণ, ভল্লুক ও বানর৷ বনের ভেতরে কিছুক্ষণ অবস্থান প্রকৃতি প্রেমীদের নিকট হতে পারে অপূর্ব অভিজ্ঞতা৷
৬. যাতায়াতঃ ঢাকা থেকে বিমানে যশোর, সেখান থেকে মংলা সড়কপথে এবং মংলা জলযানে সুন্দরবন৷
৭. বিনিয়োগের ক্ষেত্রেঃ
ক) খুলনা এবং মংলায় আধুনিক সুবিধাদি সম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণ;
খ) সমুদ্রগামী জলযানে মংলা ও সুন্দরবনে প্যাকেজ ভ্রমনের সূচনা, পটুয়াখলীর কুয়াকাটা সৈকতে এবং নদীমাতৃক সৌন্দর্য উদঘাটনের জন্য নিকটবর্তী উপকলীয় দ্বীপ সমূহে বিশেষ ভ্রমণ পরিচালনা৷ |
|
|
|
|
|