বাংলাদেশের পর্যটন    আকর্ষণীয় স্থান   প্রধান পর্যটক স্থান  
   

ময়নামতি

প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত ময়নামতি একদা 'সমতট' হিসেবে পরিচিত ছিল৷ কুমিল্লা জেলার মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে বিচ্ছিন্ন এগার মাইল লম্বা নিচু পাহাড় শ্রেণী-সম্বলিত এলাকাটি ময়নামতি লালমাই পাহাড় শ্রেণী হিসেবে পরিচিত৷ প্রত্বতাত্বিক উত্খননের ফলে এ পাহাড় শ্রেণীর বিভিন্ন স্থানে ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীতে নির্মিত বৌদ্ধ পুরাকীর্তির প্রায় ৫০টি নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে৷ ১৯৫৫ সাল থেকে অদ্যাবধি শালবন বিহার, কোটিল্যা মুড়া, আনন্দ রাজার বাড়ী, চরপত্র মুড়া ও ময়নামতি রাজার বাড়ী প্রভৃতি স্থানে উত্খণনের ফলে অনেক বৌদ্ধ মঠ, মন্দির ও স্তুপের সন্ধান পাওয়া যায়৷ এ সব স্থান উত্খনন করে পাথর ও ব্রোঞ্জের তৈরী দেব-দেবীর মূর্তি, মুদ্রা, ধ্বংসাবেশষসমূহ, তাম্র পট্রলী, পোরামাটির ফলক, জহরত, তৈজষপত্র ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিবিধ সামগ্রী পাযয়া যায় যা সে সময়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অর্জনের সাক্ষ্য বহন করে৷ শালবন বিহার অষ্টাদশ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর বৌদ্ধ সভ্যতার বৃহত্তম কেন্দ্রবিন্দু৷ এসব আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে মনোরম কেন্দ্রীয় মন্দির৷ শালবন বিহার থেকে ৫ কি.মি. উত্তরে কোটিল্যা মুড়া অন্যতম বৌদ্ধ স্থাপনা৷ চরপত্র মুড়া- একটি বিচ্ছিন্ন মন্দির যা কোটিল্যা মুড়া এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী থেকে ২.৫ কিলোমিটার
পশ্চিমে অবস্থিত৷ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী দেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃত হিসেবে পরিচিত৷ ময়নামতি ঢাকা থেকে ১১৪ কিলোমিটার এবং চট্রগ্রাম থেকে সড়ক পরিবহনে ২ ঘন্টার দূরত্বে অবস্থিত৷



কক্সবাজার

বিস্তীর্ন সোনালী বালুকা, উঁচু খাঁড়া পাহাড়, সফেন ঢেউরাশি, দুস্প্রাপ্য শাঁখের খোলক, বর্ণিল প্যাগোডা বৌদ্ধ মন্দির এবং উপজাতী ও সুস্বাদু সামুদ্রিক খাদ্য এসবই কক্সবাজার - বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী৷ সবুজ পর্বতরাশির পটভুমি থেকে শান্তভাবে বঙ্গোপসাগরের নীল জলে ঢালু হয়ে নেমে আসা বিশ্বের দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন (১২০ কি.মি.) সৈকত এখনো ব্যবহারোপযোগী৷ সৈকত পর্যটকদের স্নান, সূর্যস্নান ও সাঁতারের জন্য আহবান করে৷ উঁচু ঢেউয়ের প্রেক্ষাপটে অস্তায়মান সূর্যের অপূর্ব দৃশ্য সত্যিই মনোরম৷ রাখাইন উপজাতি পরিবারের হাতে তৈরী চুরুট ও
সুন্দর সামগ্রীসমূহ স্মারক হিসেবে পর্যটকদের পছন্দ৷ চট্রগ্রাম থেকে ১৫২ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজার ঢাকা ও চটৃগ্রামের সঙ্গে বিমান ও সড়ক পথে সংযুক্ত৷



কান্তজী মন্দির

দিনাজপুর শহরের নিকটে দিনাজপুরের মহারাজা প্রাণনাথ ১৭৫২ খ্রীষ্টাব্দে এই মন্দির নির্মাণ করে৷ মন্দিরটি ৫০ বর্গফুটের তিন-তলা বিশিষ্ট সৌধ, যা বেলেপাথরের হালকা বাঁকানো বেদীর উপর দন্ডায়মান৷ বিশ্বাস করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গারামপুরের নিকটবর্তী প্রাচীন নগরীর বাস্তব-এর ধ্বংসাবশেষ খনন করে এ সব বেলে পাথর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে৷ কথিত আছে, সেখান থেকে বর্তমান চুরি যাওয়া রাধা কৃষ্ণ মূর্তি আনা হয়েছে৷ ইহা মুলত একটি নবরত্ন মন্দির ছিল যার দুতলার চারকোণ চারটি এবং তিন তলার কেন্দ্র একটি সুসজ্জিত স্তম্ভ দ্বারা সজ্জিত ছিল৷ উনবিংশ শতকের শেষপাদে সংঘটিত ভুমিকম্পে এসব সুসজ্জিত স্তম্ভ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়৷ মন্দিরের বহির্ভাগের প্রতি ইঞ্চি সুন্দরভাবে পোড়ামাটির ফলক দিয়ে অলঙ্কৃত করা হয়েছে৷ এসব ফলক উদ্ভিদ, প্রাণী, জ্যামিতিক বিষয়বস্তু, পৌরাণিক দৃশ্য, বিষ্ময়কর সমসাময়িক সমাজ চিত্র ও প্রিয় অবসর-বিনোদনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ বিগত শতাব্দীর নিদর্শনসমৃদ্ধ মহারাজার প্রাসাদ এবং স্থানীয় জাদুঘর উপভোগ্য ভ্রমন স্থান৷



চট্রগ্রাম

বৃহৎ অরন্যবেষ্টিত পাহাড় ও হ্রদ, নিসর্গমন্ডিত অঞ্চল, চট্রগ্রাম অবকাশ যাপনের একটি চমৎকার স্থান৷ শহরটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং একটি ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সমুদ্র ও বিমান বন্দর৷ এর সবুজ পাহাড় ও বনাঞ্চল, বিস্তীর্ণ বালুকাময় সৈকত এবং সুশীতল আবহাওয়া অবকাশ যাপনকারীদের আকৃষ্ট করে৷ চট্রগ্রাম শিল্প, ব্যবসা ও বানিজ্যের প্রধান কেন্দ্র৷ দেশের একমাত্র তৈল শোধনাগার এখানে অবস্থিত৷ চট্রগ্রাম ঢাকার রেল ও সড়ক, বিমান ও জলপথে যুক্ত৷ সকল আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বিশ্বমানের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এ শহরের সাম্প্রতিক সংযোজন৷ চট্রগ্রামে বংলাদেশে পর্যটন করপোরেশনের মোটেল সৈকত পর্যটকদের মানসম্মত আবাসন ও রেস্তরাঁ সুবিধা দিয়ে থাকে৷



পাহাড়পুর

জমকালো বৌদ্দ নিদর্শনের মধ্যে নিয়মিত খননের ফলে নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে আবিষ্কৃত হয় প্রকান্ড মন্দির ও মঠ৷ স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিকভাবে পাহাড়পুর বিহার পৃথিবীর একটি ঐতিহ্য সম্পদ৷ বিখ্যাত পাল সম্রাট ধর্মপালের সময়ের কাদামাটি খচিত মোহর থেকে প্রখ্যাত সোমপুর বিহার চিহ্নিত হয়৷ হিমালয়ের দক্ষিণে ইহাই সর্ববৃহৎ বিহার৷ এই চতুর্ভুজাকার মঠে অঙ্গনবেষ্টিত মোট ১৭৭ টি ভিক্ষু - কক্ষ রয়েছে৷ সামনে রয়েছে বারান্দা, ইহার সম্প্রসারিত উত্তরের দরজা এবং অসংখ্য ব্রত-স্তুপ, ছোট উপাসনালয় এবং ২২ একর অঙ্গনের মধ্যে আনুষংগিক ভবন, যার কেন্দ্রে রয়েছে বৈশিষ্টপূর্ণ সুউচ্চ পিরামিড মন্দির৷ বিহার সংলগ্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত প্রতিনিধিত্বমূলক সামগ্রী৷ খননকালে প্রাপ্ত অনেক প্রত্নসামগ্রী রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরেও সংরক্ষিত আছে৷



রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সদর দপ্তর - রাঙ্গামাটি ৭৭ কি.মি উঁচু নীচু পাহাড়ী সড়ক দ্বারা চট্রগ্রামের সাথে সংযুক্ত৷ রাঙ্গামাটির দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী, ঘন অরন্যবেষ্টিত পাহাড়,
হ্রদ এবং বৈচিত্রময় ফুল, বৃক্ষ ও পাখী সবই পর্যটকদের উদ্দ্যেশে নিবেদিত৷ রাঙ্গমাটি শহর কাপ্তাই লেকের পিশ্চম তীরে অবিম্থত৷ রাঙ্গামাটি - এর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বর্ণাট্য উপজাতীয় জীবনযাত্রা, ঝুলন্ত সেতু, ঘরে বোনা তাঁতের সামগ্রী এবং হাতীর দাঁতের গহনা পর্যটকদের পছন্দের স্থান৷



 
  খবর | দরপত্র | চলতি ঘটনাবলী | মন্তব্য | প্রশ্নোত্তর | সাইট নির্দেশিকা | ওয়েব-মেইল
  কপিরাইট © ২০০৭, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত. কারিগরী ও আর্থিক সহায়তাকারী: SICT  ওয়েবসাইটটির নির্মাতা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী - BIDS